চোরের শাস্তি – The punishment of the thief / Gopal Bhar

চোরের শাস্তি (Gopal Bhar):-

আগেকার দিনে পাড়াগাঁয়ে চোরেরা সিদ কেটে চুরি করত। আবার অনেক সময় চালের টালি সরিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে চুরি করে দরজা খুলে পালাত। এইভাবে এক ঢর গােপালের বাড়িতে চুরি করতে এসে ভীষণ বিপদে পড়ল।

চোরের শাস্তি - The punishment of the thief / Gopal Bhar
Gopal Bhar

গােপাল তখনও পাকা বাড়ি করতে পারেনি। সে বাস করত মাটির ঘরে, আর চালটি ছিল টালির তৈরি, কিন্তু মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের প্রিয়পাত্র বলে চারি দিকে গােপালের নাম ছড়িয়ে পড়েছি ল। এইসব শুনে এক চোর গােপালের ঘরে চুরি করার মতলব করল।তখন প্রায় মাঝরাত। কৃষ্ণপক্ষ, চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। চোরটা চুপি চুপি এসে উঠল। গােপালের টালির চালে। হঠাৎ শব্দ পেয়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল গােপালের বো এর।

এদিকে চোরটা তখন ঘরের মধ্যে নামবে বলে একখানা টালি সরিয়েছে। গােপালকে সেলা দিয়ে আস্তে আস্তে ডেকে ঘুম ভাঙলি তার বউ। এমন সময় একদল ডাকাত গােপালের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ভেতরে ঢােকার চেষ্টা করতে লাগল। গােপাল তাড়াতাড়ি টাকা পয়সা ও গয়না-গাঁটি যা ছিল একটা পুটলি বেধে পিছনের দরজা দিয়ে বাগানে লুকিয়ে রইল। পথ নেই, চাল থেকে নামলেই ডাকাত দলের হাতে পড়বে। গােপালের বৌ আগে থেকেই জানত, যে, চালের উপর একটা চোর বসে আছে। গােপালও তাকে বলে গেছে কি করতে হবে। তাই সে চেঁচামেচি না করে চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগল। | এদিকে ডাকাত দরজা ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে ঢুকেই গােপালের বৌকে দেখতে পেয়ে বলল গাড়ির কত কোথায় বল? তা না হলে তােকেই কেটে টুকরাে টুকরাে রব। তাড়াতাড়ি বল, বাড়ির কতা কোথায়? ওদিকে চোরব্যাটার হলাে বিপদ। বাড়িতে ডাকাত পড়েছে, অথচ তার পালাবার
গােপালের মত তার স্ত্রীও বেশ বুদ্ধিমতী ছিল, তা ছাড়া গােপাল তাকে সব বলে চেয়েছিল। তাই সে তাড়াতাড়ি ডাকাতদের বললে—কতা তােমাদের ভয়ে ওই যে লর চালে বসে আছেন। ওর কাছে ই সিন্দুকের চাবি আছে। এর বেশি আর আমি ই জানি না বাবা! তােমাদের পায়ে পড়ি, আমাকে তােমরা ছেড়ে দাও।ডাকাতরা তখন চালের উপর থেকে চোরটাকে নামিয়ে এনে সিন্দুকের চাবি কোথায়
জিজ্ঞাসা করলে। চোর তখন ভয় পেয়ে ডাকাতদের পায়ে ধরে বললে–মা কালীর দিবি বলছি, আমি বাড়ির কেউ নই, চুরি করতে এ বাড়িতে এসেছি। আমাকে ছেড়ে দাও বাবা। ডাকাতরা তার কথা বিশ্বাস না করে সিন্দুকের চাবির জনয নির্মম ভাবে প্রহার করতে লাগল। ডাবত যত মানে, সে তত বলে,আমায় ছে ড়ে দাও বাবারা। আমি এ বাড়ির কেউ নই। সিন্দুকের চাবি কোথায় আমি জানি না। এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। এদিকে গোপাল তখন সারা গ্রামের লোক জড়ো করে লাঠি সোটা বশ প্রকৃতি নিয়ে হৈ হৈ করতে করতে সেখানে এসে হাজির হলাে। অত লােকজন সেখে ওরাকাতরা যেদিকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাঁচল, কিন্ত চোর চোরা পড়ে রইল মডার মত ন। তার তখন আর উঠে দাঁড়াবার শক্তি ছিল না। গোপাল যদি এসে পড়ত, তাহলে চোটাকে ডাকাতরা মেরেই ফেলত। গায়ের লােকজন তখন চোরকে মারতে যেতে গোপালের বউ বললে ওকে আর মেরাে না। ওকে বাড়ির কর্তা সাজিয়ে আমরা এ যাত্রা ডাকাতদের হাত থেকে বেঁচে গেছি। গোপালের বউয়ের কাছে সব কথা শুনে শায়ের লােক এর খুব প্রশসাে করতে করতে যে মাব বাড়ী চলে গেল। গোপাল আর গোপালের বউ চোবটাকে সেবা শুশ্রষা করে সুস্থ করলে। চোারটা তখন জীবনে আর কখনও চুরি করবে না বলে বাড়ি ফিরে গেল। এবং সেদিন থেকে সে আর কখনও চুরি করেনি।