11+ Best Gopal Bhar golpo -গােপালের চালাকি

গােপালের চালাকি (Gopaler chalky) – Gopal Bhar:-

Hi, friends in this post we are very enjoying read the post-Gopal Bhar Golpo. We regularly post various types of Gopal Bhar Golpo in various content. You are also searching in this website sequence and various types of Bangla love SMS and Gopal Bhar Bangla.
                                                           
 
                                                                    গোপালের পাঠশালা কামাই 
 

ছেলেবেলায় গােপালকে পাঠশালায় ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু গােপালের লেখাপড়ায় মন ছিল না। প্রায়ই সে নানা ওজর দেখিয়ে পাঠশালা কামাই করত। এইভাবে একবার গােপাল পরপর তিনদিন পাঠশালায় গেল না। চারি দিনের দিন পাঠশালায় যেতে পণ্ডিতমশাই জিজ্ঞাসা করলেন –

গােপাল গত পরশুর আগের দিন পাঠশালায় আসিসনি কেন?

গােপাল বললে আমার খুব পেট কামড়াচ্ছিল। পণ্ডিতমশাই জিজ্ঞাসা করলেন পরশু দিন না আসার কারণ কি?

গােপাল বললেন আজ্ঞে আমাদের ধােপার গাধাটা হঠাৎ মারা গেল কিনা। পণ্ডিতমশাই আশ্চর্য হয়ে বললেন, ধোপার গাধা মরে গেল, তাতে তাের কি? গােপাল বললে বারে, ধনেপাতা আমাদের বারাে মাস কাপড় কাচে, তার গাধাটা হঠাৎ মরে গেল, তার দুঃখে কে সান্ত্বনা দেবে বলুন?

পণ্ডিমশাই বললেন কাল কি জন্য কামাই করেছিলি?

গােপাল সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলে কাল কামাই হবে কেন? কালতাে বিকেলে আপনার সঙ্গে আমার চণ্ডীমণ্ডপে দেখা হযেছিল।

উত্তর শুনে পণ্ডিতমশাই মনে মনে ভেবে নিলেন, এর লেখাপড়া হবে না। তবে ভবিষ্যতে উপস্থিত বুদ্ধির জোরে খুব সুনাম অর্জন করবে। তিনি গােপালকে আর কিছু বললেন না।

 

                                                              গাছে না উঠতেই এক কাঁদি

 

গােপালের কলাবাগানের বেশ বড় দু’কাদি মর্তমান কলা হয়েছিল। পাছে চুরি হয়ে যায়, এজন্য গােপাল রাত্রে মাঝে মাঝে উঠে বাগানে গিয়ে দেখে আসত।

সেদিন গােপাল অন্ধকারে বাগানে ঢুকতেই খস খস শব্দ পেয়ে বুঝতে পারলে, নিশ্চ়াই বাগানে কলা চোরের আগমন ঘটেছে। সে কোন সাড়া শব্দ না দিয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে রইল।

এদিকে চোরটা একটা কাদি কেটে গাছের গােড়ায় নামিয়ে রেখে আর একটা কাদি কাটবার জন্যে দ্বিতীয় গাছটার কাছে গেল।

এই সুযােগে গােপাল প্রথম গাছটার গোড়ায় এসে মর্তমান কাদির কাছে দাঁড়িয়ে চোরকে শুনিয়ে চেঁচিয়ে বলতে লাগল—একি ব্যাপার। গাছে না উঠতেই এক কাদি।

চোর ব্যাটা তখন গােপালের গলার আওয়াজ পেয়ে চোচা দৌড় দিয়ে প্রাণ বাঁচাল। গােপাল মনের আনন্দে এক কাদি কলা নিয়ে বাড়ী এলাে।

 

                                                                              আমি তো আগে যাব

 

একদিন গােপালের কোনও কাজ-কর্ম না থাকায় দাওয়াব উপর বসেছিল। এমন সময় একজন কমবয়েসী বাবাজী এসে কিছু সাহায্য চাইলে। গােপালের তখন খুব নাম-ডাক। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কৃপায় ভালই রােজগার হচ্ছে তাই গােপাল সঙ্গে সঙ্গে ট্র্যাক থেকে একটি টাকা বার করে বাবাজীর হাতে দিলে।

নগদ একটা টাকা পেয়ে বাবাজী খুব খুশী হয়ে ফিরে চলল। কিছুটা এগিয়েছে, এমন সময় গােপাল আমার বাবাজীকে ডাকলে।

গােপালের ডাক শুনে বাবাজী গােপালের কাছে এসে দাঁড়াল। গােপাল জিজ্ঞাসা কবলেতােমার বয়স কত হলাে বাবাজী?

বাবাজী বললে, আমার বয়স এখন পঁচিশ।

এই কথা শুনে গােপাল বললে – তুমি আমার টাকাটা ফেরত দিতে বাপু। আমার বয়স পঞ্চশ, তােমার চেয়ে আমিই আগে ভগবানের কাছে যাব। আর আগে গিয়ে আগেই ভগবানের সেবা করতে পারব। তােমার যা বয়স, তাতে তুমি তাে আমার অনেক পরে যাবে। তার জন্যে আগে থেকে টাকা নেবার দরকার কি?

                                                                                 তােমরা তাে সবই বাছ

 

একবার গােপালের স্ত্রী গঙ্গান্নান করতে গেছে। শান সেরে উঠেছে এমন সময় খুব বাজদা বাদ্যি বাজিয়ে নৌকা করে বর যাচ্ছিল বিয়ে করতে। বরযাত্রীদের সকলেই অল্প বয়েসী। সবাই বেশ সেজেগুজে চলেছে।

মেয়েদের স্বভাবই কোনও বর না কনে গেলে আগ্রহ নিয়ে দেখা বা খোঁজ খলর দেওয়া।

এই আগ্রহ এবং কৌতূহল নিয়ে গোপালের স্ত্রী বরযাত্রীদের জিজ্ঞাসা করলে হ্যাগা, তােমাদের মধ্যে কোনটি বর?

বরযাত্রীদের মধ্যে একজন ঠাট্টা করে বলে উঠল বেছে নাও।

গোপালের বউ কিন্তু সহজে হারবার পাত্রী নয়, সে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলে- বাঁচবো কি? তোমরা তো সবাই বাছ।
মুখের মত জবাব পেয়ে বরযাত্রীটি মাথা নিচু করলে।

 
 
                                                                      গোপাল এর চালাকি
 
 
এক নদীর কাছে গােপালের কিছু টাকা দেনা ছিল। বার বার তাগাদা করে আদায় করতে না পেরে, মুদী মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে দ্বিগুণ টাকার দাবি করে আবেদন জানালো |
 
 
Best Gopal Bhar golpo
 
পরদিন রাজসভায় মহাবাজ গােপালকে জিজ্ঞাসা করাতে, বলল এত টাকা তাে নয় হজর। মাত্র কয়েক টাকা। এখন আমার অসুবিধা আছে পরে শােধ কবে দেব। তা কত টাকার দাবি করেছে?
 
    মহারাজ বললেন দশ টাকা |
 
গোপাল কিছু বলছে না দেখে মহারাজ বললেন—গােপাল! তুমি কিস্তিবন্দী করে বরং টাকাটা শােধ করে দাও।
 
গােপাল মাথা নিচু করে বললে—আমার কোন আপত্তি নেই মহারাজ। আপনার আদেশ শিরােধার্য। কিন্তু এতটা টাকা তাে মুদীর পাওনা নয়।
 
মহারাজও ভাবলেন নিই কিছু গােলমাল আছে। তিনি তখনই মোদিকে হিসাব দেখাতে বললেন। হিসাব পরীক্ষা করে দেখা গেল, দশ টাকাই মুদীর পাওনা। মহারাজ বললেন—এই তাে গােপাল তােমার হিসাব তাে ঠিকই আছে। মুদী তাে মিথ্যা কথা বলেনি।
 
গােপাল কোন কথা না বলে কিছুক্ষণ হিসাব দেখে বললে—মহারাজ! মুদী কত বড় জোচ্চোর দেখুন, যে ক দিন অড়হর ডাল নিয়েছি, সেই ক’ দিন মুদী আমার নামে ঘি লিখে রেখেছে। অথচ আমি ঘি খাই না অড়হর ডালে।।
 
মোদী তখন বললেন হুজুর, ঘি ছাড়া কি অড়হর ডাল খাওয়া যায় ?
 
    কৃষ্ণচন্দ্র রাজা লােক, তিনি মুদীর কথায় বিশ্বাস করলেন, তিনি দশ টাকা দেনাই সাব্যস্ত করলেন। গােপাল কি আর করবে। অনেক কষ্টে মুদীর দশ টাকা দেনা শোধ করলে। কিন্তু মুদীর উপর তার রাগ রইলাে। সে মদীকে উচিত শিক্ষা দেবার চেষ্টায় রইলাে। মুদীর সঙ্গে বেশ ভাব জমিয়ে রাখল, কিন্তু তাকে জব্দ করার সুযােগ খুঁজতে লাগলাে। হঠাৎ সুযােগ এসে গেল। সে বছর গােপালের ভাল আখ চাষ হয়েছিল, গােপাল কিছু গুড় তৈরী করালে। তারপর একদিন কথায় কথায় মুদীকে বললে ভাই। একজন কিছু আখের গুড় সন্তায় বিক্রী করবে, তুমি নেবে?
 
     সস্তায় গুড়ের কথা শুনে মুদীর লােভ হলাে, সে রাজী হয়ে গেল এবং গােপালের হাতে নগদ টাকা দিয়ে কয়েক টিন গুড় কিনে নিয়ে গেল দোকানে, এনে মু দখল কোথায় গুড? টিনের মধ্যে উপরে সামান্য কিছু গুড় তারপর বালি ভর্তি ।
 
সে তাড়াতাড়ি গোপালের বাড়িতে গিয়ে নেপালকে বললে সব কথা, তাকে কড়া কথা বলতে লাগলাে 1
 
গােপাল হাসতে হাসতে বললে—আহা, রাগ করছে। কেন ভাই। আহর ভল বেচলেই যেমন ঘি বিক্রি করতে হয়, সেই রকম বলি ছাড়া আমি ৩৩ বিলি করি না। মুদী গােপালের কথায় বুঝতে পারলাে সব, আর সেদিন থেকে সে ভালl

আবার পড়ুন – The punishment of thethief / Gopal Bhar